Type Here to Get Search Results !

ভিজিএফ কার্ড বিতরণে ‘হরিলুটের’ অভিযোগ, বড়লেখায় যুবদল–ছাত্রদল নেতাদের পোস্টে তোলপাড় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার সাদি

স্টাফ রিপোর্টার সাদি 

১৪-০৩-২৬

যুবদল নেতা ফয়ছল আহমদ সাগরের ফেসবুক লাইভ থেকে সংগৃহীত ছবি।


পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার ৮৮৫টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা রয়েছে। তবে এই সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন কার্ডগুলো সরাসরি সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ভিজিএফ কার্ডের জন্য প্রথমে জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত চাল সংগ্রহ করেন।কিন্তু স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবার সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমনকি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ভিজিএফ কার্ড কোটাভিত্তিক বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষদের মধ্যেই এই সহায়তা দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু এবারের বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাবেক যুবদল নেতা ফয়ছল আহমদ সাগর শুক্রবার এক ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি পৌরসভায় অবস্থান করে যেসব গরিব মানুষ চাল পাননি তাদের নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করবেন এবং এই অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত তা তুলে ধরবেন।অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার পৌরসভার ছাত্রদল নেতা মনসুর আহমদ প্রিন্স নিজের ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে দুটি পোস্ট দেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেন, “বড়লেখা পৌরসভার ইদের VGF চালের সিন্ডিকেটের সাথে কারা জড়িত! ওয়ার্ড প্রতি ৩১৬ কার্ডের জায়গায় ২১০। ১০০/৯০ কার্ড গুম কারা করছেন। বড়লেখা পৌর প্রশাসক জবাব চাই?”পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার ফাহিম মন্তব্য করেন, “এতে আমাদের লোভী ২/১ জন জড়িত থাকতে পারে, যাদের কারণে গরিবের হক লুট হচ্ছে। জবাব দিতে হবে, তখন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” যুবদল নেতার ফেসবুক লাইভ ও ছাত্রদল নেতার ফেসবুক পোস্ট এবং কমেন্টে সিলেটটুডের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।জানা গেছে, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সাধারণত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে বিনামূল্যে চাল সহায়তা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের গঠিত কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়ে থাকে। প্রতি কিস্তিতে একজন সুবিধাভোগী সাধারণত ১০ কেজি চাল পান। কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা চরম অভাবী পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে।তবে অভিযোগ উঠেছে, এ বছর বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কার্ড হস্তান্তর করেছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।এ বিষয়ে বড়লেখা পৌরসভার প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাকরি করি। অনেক সময় ক্ষমতায় যারা থাকেন, তাদের কাছেই এসব দিতে হয়। তবে কার্ডগুলো এভাবে দেওয়া ঠিক হয়নি, এতে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

About Us

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি: ফয়সল আহমদ