স্টাফ রিপোর্টার সাদি
১৭ জানুয়ারি
| অবরুদ্ধ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো ভিসিসহ অবরুদ্ধরা মধ্যরাতে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। |
দীর্ঘ প্রায় ১৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে তারা মুক্তপান। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে-১ তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা।
অবরুদ্ধরা হলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) চেম্বার কোর্টের আদেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালবেন এই প্রতিশ্রুতিতে রাত পৌনে একটার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে আদালতে করা রিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাবি ক্যাম্পাস। তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রো ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
এদিকে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করে ৮ নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শিক্ষকদের দুইটি সংগঠন পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও করেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ শুভ। আবেদনের শুনানি শেষে দুপুরে আদালত নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। এ খবরে মুহূর্তে উত্তাল হয়ে উঠে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি প্রধান ফটকে গিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্যানেলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
কর্মসূচিতে অংশ নেয় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ছাত্রদল-সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের একাংশ, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এদিকে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকেলে এ আবেদন দাখিল করা হয়। আবেদনে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
’ এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। আন্দোলনের সময় শাকসু নির্বাচন নিয়ে রিট করা ভিপি পদপ্রার্থী মুমিনুর রশীদ শুভকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে তারা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে প্রশাসনিক ভবন-১ এ তালা দিয়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রো ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ছাত্রদের একটি প্রতিনিধিদল অবরুদ্ধ ভিসি ও প্রো ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন।
অন্যদিকে, বিএনপিপন্থী ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সোমবার সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন। তিনি এ সময় অন্যান্য শিক্ষকদেরও নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তাদের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর দুপুর একটার দিকে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপটার এক সংবাদ সম্মেলনে শাকসু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সহযোগিতা করবেন বলেও জানান ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ২০ জানুয়ারি, দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাকসু নির্বাচন ২০২৬। আমরা ইউটিএলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আহ্বান করছি এই নির্বাচন করার জন্য। আমরা প্রত্যাশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে আগামীকাল নির্বাচন করবে। আমরা ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব, ইনশাআল্লাহ। কয়েকজন শিক্ষক অসহযোগিতার কথা বলেছেন। আমরা বলতে চাই অধিকাংশ শিক্ষক নির্বাচন এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে।’
