Type Here to Get Search Results !

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: নির্বাচন এলেই কেন প্রশ্নটা ফিরে আসে

ডেস্ক রিপোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার সাদি 

০৮ ফেব্রুয়ারি


নির্বাচন মানেই জনগণের মত প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অথচ বাস্তবতা হলো—নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই জনমনে এক অস্বস্তিকর শব্দ ঘুরপাক খেতে শুরু করে: ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান, নাকি আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি বাস্তব ও বারবার ফিরে আসা সংকট?ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রায় প্রতিদিনই এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে দেখা যাচ্ছে যে, ‘একটি মহল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে' অথবা 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মেনে নেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে।'

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতারাই গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার একে অপরকে ইঙ্গিত করে এসব কথা উচ্চারণ করেছেন।

তবে কেবল রাজনৈতিক দলের নেতারাই নন বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনও গত বছরের মার্চে এক আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘ভোট–সন্ত্রাসের চেষ্টা’ বা উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আখেরে ভালো হয় না।’এমনকি বাংলাদেশে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে কী বোঝায়?’ এমন প্রশ্নও দেখা গেছে।

কিন্তু এই 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' কী? অতীতের কোন কোন নির্বাচনকে 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর মতো অভিযোগ ওঠার কারণে বিতর্কিত বলে বিবেচনা করা হয়? আর সেসব অভিযোগগুলোই বা কী কী ছিল?

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কী?

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে 'ইলেক্টোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং : ভোটিং রুলস অ্যান্ড পলিটিক্যাল বিহেভিয়ার’ নামে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক পিপ্পা নোরিসের একটি বই প্রকাশিত হয়।

ব্রিটিশ আমেরিকান এই পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট তার বইয়ে ইলেকটোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে একটি নির্বাচনে ধাপে ধাপে এর সব স্টেকহোল্ডারদের প্রভাবিত করে সেটি লিখেছেন।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে মিজ নোরিস বুঝিয়েছেন, ‘আনুষ্ঠানিক সব নির্বাচনী নিয়মের পরিবর্তনকেই ইলেক্টোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ এবং জনগণের কৌশলগত আচরণ পরিবর্তন করে বড় ধরনের কনসিকোয়েন্স বা পরিণতি তৈরির ক্ষমতা রাখে এ পদ্ধতি।’

অর্থাৎ এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হয়, যাতে বিশেষ একটি পক্ষের জন্য পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।

সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনে এর প্রয়োগের উদাহরণ তুলে ধরেছেন মিজ নোরিস।

কোনো কোনো দেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার জন্য ব্যবহৃত হলেও বেশির ভাগ সময়ই তা গণতন্ত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক, রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকসহ কয়েকজন জানান, দেশটিতে বেশির ভাগ সময়ই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে নির্বাচনকে 'ম্যানিপুলেট' করার জন্যই মূলত এই প্রক্রিয়া ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, ভোট গণনায় কারচুপি, ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার থাকা, প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের ভোটদানে বাধা বা জোর করে ভোট দেওয়া, ব্যালট বাক্স চুরি, পোলিং এজেন্টদের বাধা—এ রকম নানা বিষয় এই পদ্ধতিতে যুক্ত।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্ষমতাধর প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এটা (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) করতে চায়। যাদের ক্ষমতা বেশি তারা পারে, যাদের ক্ষমতা কম তারা পারে না।’

বাংলাদেশে প্রথম কবে এর প্রয়োগ

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ২০০০ সালের পরে বাংলাদেশের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটি বেশি শোনা গেলেও নানা নামে বা ফরম্যাটে এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এর আগেও দেখা গেছে।

এর আগের নির্বাচনগুলো নিয়েও কারচুপি বা সরকারের ইচ্ছামত নির্বাচনী ফলাফল তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

তবে সেই সময় এসব ঘটনায় কারচুপি, জালিয়াতি বা ভোট চুরির মতো অভিযোগ তোলা হলেও, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মূলত এই 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' শব্দটি রাজনীতিবিদদের মুখে শোনা যায় বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা



About Us

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি: ফয়সল আহমদ